• মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৬:০০ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
বার্তা বিজ্ঞপ্তি:
দৈনিক বার্তা সময়ে নিয়োগকৃত প্রতিনিধি হওয়ার আপাতত কোন সুযোগ নেই, তবে সকল সংবাদকর্মী আমাদের বার্তামেইলে সংবাদ প্রেরণ করতে পারবেন। আপনদের প্রেরিত বার্তা বাছাইক্রমে প্রকাশ করা হবে এবং প্রেরিত  সংবাদের ভিত্তিতে আপনার প্রতিনিধি  হওয়ার সুযোগ থাকবে-  ধন্যবাদ  -সম্পাদক।  বার্তা প্রেরণের মেইলঃ dainikbartasomoynews@gmail.com

কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ত্রাণ আত্মসাতে জনপ্রতিনিধিরা

দৈনিক বার্তা সময় ডেস্ক: / ১৬৯ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশ সময় : রবিবার, ৭ জুন, ২০২০

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের শুরু থেকেই কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ত্রাণ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। তবে বিতরণের ক্ষেত্রে অনিয়মের কারণে অনেক দরিদ্র মানুষ ত্রাণ পাচ্ছে না। বিশেষ করে, জনপ্রতিনিধিরা (ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার) গরিবদের ত্রাণ আত্মসাৎ করছেন বলে প্রায়ই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ অনিয়ম রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যে প্রায় শতাধিক জনপ্রতিনিধিকে অনিয়মের দায়ে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। বরখাস্ত হওয়া বেশকিছু জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষে ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করেছে দুদক। আবার অনেকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে। বিশিষ্টজনরা বলছেন, বেশকিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নেই। এ কারণে বাড়ছে দুর্নীতি। অনেকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অনিয়ম করেও পার পাচ্ছেন। গত এপ্রিল থেকে অনেক জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা হলেও ত্রাণ আত্মসাৎ করেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন কেউ কেউ।

জানা যায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। কয়েকবার বর্ধিতকরণের মাধ্যমে এ ছুটি শেষ হয় ৩০ মে। একই সময়ে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ায় বেকার হয়ে পড়ে লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষ। এ পরিস্থিতিতে এসব নিম্ন আয়ের মানুষের কথা চিন্তা করে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে ত্রাণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কিন্তু এসব ত্রাণ বিতরণের সঙ্গে ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়েন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। সে সময় মাটির নিচে, খাটের নিচে, পুকুরে, নানা জায়গায় মিলেছে ত্রাণসামগ্রী। এ কাজে জড়িতদের কেউ জনপ্রতিনিধি, আবার কেউ ব্যবসায়ী। তবে মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে এ পর্যন্ত ৮৭ জনপ্রতিনিধিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ২৯ জন ইউপি চেয়ারম্যান, ৫২ জন ইউপি সদস্য, একজন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ সদস্য একজন এবং পৌরসভার কাউন্সিলর রয়েছেন চারজন। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের জন্য সরকারের দেয়া ত্রাণের চাল চুরির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। যারাই এই চুরির সঙ্গে জড়িত হোক না কেন, প্রমাণ পেলেই তাকে অপসারণ করা হচ্ছে।

এদিকে সরকারি ত্রাণ বিতরণ ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির দুর্নীতি ঠেকাতে শুরু থেকেই মাঠে সক্রিয় রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির নিজস্ব গোয়েন্দা দল এরই মধ্যে ত্রাণ চোরদের একটি তালিকাও তৈরি করেছে। ত্রাণ চোরদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এরই মধ্যে প্রধান কার্যালয় থেকে জেলা কার্যালয়গুলোতে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। ঢাকা, বগুড়া, মানিকগঞ্জ, বরিশাল, কুমিল্লা, মুন্সীগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ও বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ত্রাণ আত্মসাতের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ২০টি মামলা দায়ের করেছে দুদক। বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে বরখাস্ত হওয়াদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ত্রাণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে এখন পর্যন্ত অনেক জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আরো বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে। মন্ত্রীর নির্দেশে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, যেসব জনপ্রতিনিধি গরিব মানুষর ত্রাণসামগ্রী নিয়ে অনিয়ম বা আত্মসাৎ করবে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। অভিযুক্তদের অনেককে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ত্রাণ নিয়ে নয়ছয় সহ্য করা হবে না।

জনপ্রতিনিধিদের ত্রাণ আত্মসাতের বিষয়ে সাবেক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, গরিব-অসহায়ের খাবারে ভাগ বসিয়ে ওএমএসের চাল ও ত্রাণ চুরি করেছে কিছু জনপ্রতিনিধি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া এটি বন্ধ করা যাবে না। অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের শুধু বরখাস্ত (সাময়িক) করলেই হবে না, দুর্নীতির জন্য জেল-জরিমানাসহ কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

এ বিষয়ে সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) নির্বাহী সদস্য ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, কর্মহীন মানুষদের ত্রাণ চুরি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন অন্যায় করে আসছে, কিন্তু বিচারের আওতায় না আসায় তারা দিনের পর দিন এসব ঘৃণ্য কাজ করে যাচ্ছে। এসব জনপ্রতিনিধি এবং ওএমএস ডিলারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ত্রাণ আত্মসাৎকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হলে কঠোর সাজার বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, কমিশন থেকে অন্তত দুবার সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। যাতে জাতির এ সংকটময় মুহূর্তে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির ত্রাণ বা অন্যকোনো সহায়তা নিয়ে কেউ নয়ছয় না করে। তারপরও কিছু ব্যক্তি তাদের লোভ সংবরণ করতে পারেননি। তিনি বলেন, ত্রাণ আত্মসাতের ঘটনায় ইতোমধ্যে যেসব মামলা দায়ের করা হয়েছে তা তদন্ত করে দ্রুত চার্জশিট দাখিলের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দুদক আসামিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ দায়িত্ব পালন করবে। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, গণমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যম, দুদকের গোয়েন্দা তথ্যসহ সাধারণ মানুষের অভিযোগ নিয়মিত বিচার-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ কেউ পাবে না। প্রতিটি অভিযোগ বিচার-বিশ্লেষণ করে আইনিব্যবস্থা নেয়া হবে। দুর্নীতি করে কেউ যেন শান্তিতে থাকতে না পারে, সে ব্যবস্থা কমিশন করবে। অতি লোভী ঘৃণ্য এসব অপরাধীকে আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করতেই হবে। অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে দুদক এ জাতীয় অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সংগৃহীত।


এই বিভাগের আরও বার্তা

যোগাযোগ করুনঃ